রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৪

সমবায় বিয়া

আমাদের বাসাটা গলির শুরুতে মেইন রোডের সাথেই। তো এই মাসের শুরুর দিকে দেখলাম গলির শুরুতেই বিশাল তোরন লাগাইছে সাথে আমাদের বিল্ডিং এবং এর শেষ পর্যন্ত মরিচবাত্তি। ভালোই লাগতেছে দেখতে। এক দিন যায়, দুই দিন যায়, ৫ দিন যায় মগর বাত্তি দেখি খুলে না!! উল্টা মরিচ বাত্তির লাইন দেখি গলির শেষ পর্যন্ত প্রতিদিনি এক বিল্ডিং এক বিল্ডিং করে আগাইতেছে!!
.
দারোয়ানেরে জিগাইলাম, কাহিনি কি?? কার এতো লম্মবাআআআআ বিয়া চলতাছে?? কয় বিয়া লম্বাআআআআআ না, বিয়া কয়েকটা মগর এক বাত্তি দিয়াই হইতাছে!! 
.
এতো দিন সমবায় সমিতির নাম শুনছি যেখানে সবাই মিল্লা একটা কিছু করে এতে কম খরছে বড় কিছু করা যায়।
এখন দেখি সমবায় বিয়াও আছে, এক বাত্তি দিয়া গলির এই মাথা থেকে হেই মাথা পর্যন্ত বিয়া হইয়া যায়!!

জিহান ট্যাজিটির সিকোয়েন্স

দুপুর তিনটাঃ একটা বাচ্চা পাইপের ৩০০ ফিট নিচে পড়ছে।
৪টাঃ বাচ্চার নাম জিহান যে ৪০০ ফিট নিচে আছে
৫টাঃ জিয়া ৫০০ ফিট নিচে, ফায়ার সার্ভিস তাকে তুলে আনার চেস্টা করছে
.
৬টাঃ জিহাদ ৬০০ ফিট নিচে, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসতে দেরী করছে। তাদের কাজে অবহেলা!!
৯টাঃ ফেসবুকে হ্যাস ট্যাগের মাধ্যেমে উদ্ধারের চেস্টা ‘সেইভ জিহান’
১১টাঃ জিহানকে উদ্ধারে ফেসবুকে ইভেন্টো খোলা হইছে 
.
রাত ১টাঃ সব চেস্টা ব্যার্থ, ক্যামেরা পাঠানো হচ্ছে
রাত ২টাঃ শুধি দর্শক, আপনারা যারা দূর্বল চিত্তের মানুষ তাঁরা টিভি সেট থেকে চলে যান। ক্যামেরা নিচে যাচ্ছে, এই দৃশ্য অনেকে সহজ ভাবে নিতে পারবেন না।
রাত ৩টাঃ তেলাপোকা আর টিকটিকি ছাড়া কিছুই দেখা যায় না। পুরোটাই গুজব
.
রাত ৪টা- দুপুর ২টাঃ “বলসিলাম নাআআআআআআ কিছুই নাই। আরেক রেশমা কাহিনি। বিরধী দলের কর্মসূচি বাঞ্চালের চেষ্টা!!” /“আমি আগেই জানতাম কিছু নাই, মাইনষে এতো বেকুব হয়”
.
দুপুর ৩টাঃ জিহান উদ্ধার।
দুপুর সাড়ে তিনটাঃ জিহান যদি জিবিত থাকে তাহলে বুঝতে হবে এটা আরেক রেশমা নাটক, যদি মৃত হয় তাহলে ঠিক আছে 
(মানে তারে মইরা প্রমান করতে হবে ঘটনা সত্য )

দুপুর ৩টা ৪৫ মিনিটঃ ‘বিচার চাই বিচার চাই’ সো ভাংচুর (এইখানে ক্যান ভাংচুর করলো তার কাহিনি বুঝলাম না, আর কার বিচার??? সবাই তো ক্যাম্রায় দেখলো কিছুই দেখা যাচ্ছে না, এখানে কার কি করার!!!?? বাট সবাই আন্তরিক ছিল নো ডাউট)
.
.
বিকাল ৪টাঃ ওয়েটিং ফর নেক্সট সিকোয়েন্স 

শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৪

এবাউট জিহান

আমার বাপের জনমে আমি এতো লম্বা আর এমন হরর থ্রিডি লাইভ মুভি দেখি নাই। বাচ্চা কান্দে সবাই আওয়াজ পাইলো, বাচ্চায় জুস খাইলো, বাচ্চার নড়াচড়া শুনলো, বাচ্চার সাথে কনভারসেশন হইলো কিভাবে দড়ি দিয়ে উঠে আসবে, বাচ্চায় দড়িতে উঠলো আবার পড়ে গেলো, লাস্টে ক্যামরা গেলো মাঝপথে ক্যামরা কানেকশন অফ হয়ে গেলো, আবার অন হইলো এন্ড
.
.
.
টিকটিকি মিল্লো!!!!!!!!!!!

আমগো সাংবাদিক

২৫ টা টিভি চ্যানেল। যা দেখলাম প্রত্যেকের ২টা করে ক্যামরা। একটা ক্লোজ একটা দূরে। মানে দুইটা ক্যামরা ম্যান। দুইটা ক্যামরার সাথে আবার ২ জন করে রিপর্টার। একজন পাইপের কাছে একজন দূরে। আবার ২৫টা চ্যানেলের ২৫টা গাড়ী, মানে ২৫ টা ড্রাইভার। এমন হট জায়গায় তাঁরা কি গাড়ি পাহারা দেবার পাব্লিক?? হাজার হইলেও বাঙ্গালী না সো তারাও নিশ্চই আইসে বায়স্কোপ দেখতে।
.
মোট কত হইলো?? ১৪ ইঞ্চি ওয়াইডের একটা পাইপের চার পাশে ২৫ টিভির ১২৫ জন জনগন আছেন। প্রিন্ড মিডিয়ার সাংবাদিক ফটোগ্রাফাদের হিসাব বাদ দিলাম, আবার এখন অনলাইন পত্রিকা আছে তাদেরো রিপর্টার আছে অইখানে!! সাথে এলাকাবাসী (এদের তো সব জায়গায় থাকতেই হবে,কারন এলাকার একটা কোটা আছেনা)
.
অন্তত এই সব ঘটনায় নিজের পত্রিকার বা চ্যানেলের টিআরপি বাড়ানোর চিন্তা বাদ দিয়া ভালা কিছু চিন্তা করা যায় না?? জনগনেরো জানার দরকার আছে সো একটা টিভি চ্যানেলের একটা ক্যাম্রা আর এক জন রিপর্টার গেলেই হয়, সবাই সেটা প্রচার করবে। ২৫ চ্যানেলের ৫০ ক্যাম্রায় তো আর ৫০ রকম ঘটনা দেখাবে না..
হুদ্দাই গ্যাঞ্জাম 

বলসিলাম নাআআআ

সরকারী দলের সাপর্টার একজন রিক্সা ভাড়া করতে গেছে। রিক্সায়ালা ২০ টাকার ভাড়া ৪০ টাকা চাইছে, তার রিএকশন, “এই বিরধীদল হরতাল দিয়া দিয়া সব কিছুর দাম বাড়ায়া দিছে, আর এই দেশে কোন কিছুর দাম বাড়লে কমে না। বলসিলাম নাআআআ এরা দেশটারে শেষ করবে”
.
সেইম ব্যাপার বিরধী দলের কারো সাথে হইলে, “বলসিলাম নাআআআআআআআ এই সরকার ক্ষমতায় আসলে জনগনকে বাঁচতে দিবে না। সব কিছুর দাম বাড়বে। এইবার আমার কথা লাগলো???”
.
ওগো ভাব সাব এমন যেন শেখ হাসিনা বা খালেদা জিয়া আইসা রিক্সায়ালারে কইয়া গেছে ভাড়া বাড়ায়া চাইস!!
.
কয়দিন আগে মসজিদ থেকে বাসায় আসতাছি রাস্তায় দাড়ায়া দেখি আমগো বিল্ডিং থেকে কুচকুচে কালো ধোয়া উঠতাছে। কইলজার পানি নগদ বাষ্প হইয়া গেছে। কাছে যাইয়া দেখি দারোয়ানে কর্কশীট পুড়ায়!! (টিভি-ফ্রিজের কার্টনে যেই সাদা ফোম এর মত থাকে সেটা) কিন্তু রাস্তায় শুরুতে তো ভাবছিলাম আমগো বিল্ডিং এ আগুন লাগছে। যদি তখনই ফায়ার সার্ভিসে কল দিয়া বসতাম তাইলে কি হইতো??
.
ধরেন এরুম এক কাহিনি বড় আকারে কোন এক ৫-৬ তলা কিন্টারগার্ডেন স্কুলে ঘটলো। কিছু বাচ্চা সবার চক্ষের আড়ালে সিঁড়িতে শয়তানি করে এমন কিছু কর্কশীট এক সাথ করে আগুন ধরায়া দিলো। মজা করার জন্য।
কিন্তু আগুন ধরায়া তারাও বেকুব হয়ে গেছে এতো ধোয়া দেখে!! আগুন আগুন বলে চিৎকার করছে। বদ্ধ সিড়িতে ভ্যান্টিলেশনের জায়গা না পেয়ে ধোয়া বিল্ডিং এর অন্যান্য ফ্লোরেও ছড়িয়ে গেছে। কিছু জানালা দিয়ে গাড় কালো ধোয়া বের হচ্ছে।
.
ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হইছে। নিচে ফায়ার সার্ভিস এসে পানি ছিটাচ্ছে, ধোয়ার জন্য সিঁড়ি বেয়ে উপরে যাওয়া রিস্কি, কিছুই দেখা যায় না। বাহিরে ক্রেনে করে জানালা কেটে বাচ্চাদের বের করার প্রস্তুতি চলছে। উপরে বিমান বাহিনির হেলকপ্টারে সেনা সদস্য দড়ি বেয়ে ছাদে নামছে। নিচে এপোলো স্কোয়ার হস্পিটালের স্যান্ডবাই এম্বুলেন্স রেডি আছে।
আওয়ামিলীগের সাহারা খাতুন বিএনপির মির্জা আব্বাস এসে উদ্ধার ততপরতা তদারকি করছেন। ২৫ চ্যানেলের ৫০ ক্যাম্রা, ক্যাম্রাম্যান রিপর্টার ড্রাইভার সহ ১২৫ জনের বিশাল বহর লাইভ টেলিকাস্ট করছে। অনলাইন পত্রিকা সেকন্ডে সেকন্ডে আজগুবি নিউজ আপডেট করছে, উৎসুক জনতাকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ র্যা বের সদস্যরা,
ফেবুকে কিছু বুদ্ধিজীবী “বাচ্চাদের বাঁচাও” নামে ইভেন্ট খুলছে, কেউ হ্যাস ট্যাগ দিয়ে বাচ্চা উদ্ধারের থিউরী আবিষ্কার করছে...........
.
.
.
এবং শেষে কিছুই হয় নাই। সিড়িতে কিছু কর্কশীট পোড়া আলকাতরা টাইপ অবশিষ্ঠাংশ আবিষ্কার হইছে!!!!!!
.
এইবার কাহিনি শেষে দেখেবেন দুই প্রজাতির আভির্ভাব হবে। বিএনপি সাপর্টার বলবে “আমি ‘বলসিলাম নাআআআআআআআআআ’ এটা আওয়ামিলীগের চক্রান্ত?? নিজেরা কিছু করতে পারে না এখন দেশবাসীর নজর ঘুরায়া দেয়ার জন্য এই নাটক!!”
আবার আওয়ামিলীগ সাপর্টার বলবে, “ বলসিলাম নাআআআআআআআআ সরকারকে বিব্রত করার জন্য এটা বিএনপির চক্রান্ত”
.
একটা জিনিস ভালো যে যেই দল করুক এক জায়গায় বাঙ্গালীর মিল। “বলসিলাম নাআআআআআ” কওয়াতে সবাই এক।
এতো বড় বড় জৈতিশী দেশে মগর আগে দিয়া কেউ কিছু প্রেডিক্ট করতে পারে না সব কাহিনি শেষ হবার পরে আসে “বলসিলাম নাআআআআআআআ”
আজাইরা 

শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৪

প্রবলেম কন্যা

কন্যাঃ “আমি না একটা প্রবলেমে আছি”
যুবকঃ “কি প্রবলেম?”
কন্যাঃ “নাহ কিছু না”
যুবকঃ “বলো আমাকে কি প্রবলেম?”
কন্যাঃ “নাহ ঠিক আছে, এমনেই বলছিলাম”
.
যুবকঃ “বেশি প্রবলেম থাকলে বলতে পারো আমাকে”
কন্যাঃ “নাহ আই এম ফাইন”
যুবকঃ “আচ্ছা ঠিক আছে বলতে হবে না।”
কন্যাঃ “এইযে দেখো, আমি একটা প্রবলেমে তা জেনেও তুমি কিন্তু আমার কেয়ার নিচ্ছ না। বিলকিসের বিএফ বিলিকিসের প্রতি কত্তত্তত্তত্ত কেয়ারিং  ”
.
যুবকঃ “ও আই’ম সরি। আচ্ছা বলো কি প্রবলেম”
কন্যাঃ “এখন তুমি কিন্তু আমাকে সরি টরি বলে উল্টা ইমব্রেসড করছো, এটা কিন্তু ঠিক না  ”
যুবকঃ “আচ্ছা ঠিক আছে ইমব্রেসড হলে আর বলতে হবে না থাক”
কন্যাঃ “তুমি একেবারে সেলফিসের মত একটা আচারন করছো, শুধু নিজের সাইডটাই বুঝলা ”
.
যুবকঃ “ আসলে বুঝতে পারছিনা কি করা উচিত। একবার বলতে চাচ্ছ আরেকবার জিগাস করলে বলছো না। ওকে বলো কি কাহিনি”
কন্যাঃ “ না থাক আর বুঝতে হবে না। আমি নিজেই প্রবলেম সলভড করতে পারবো হুহ... আজকে তোমার জায়গায় সখিনার বিএফ হলে.........................”
যুবকঃ   

বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৪

ওয়াশরুম পার্ট ২

একোডিং টু লাস্ট স্ট্যাটাস (ওয়াশরুম)...
.
“হাই ”
< “হ্যালো”
.
“তোমাদের বাসায় কি সাস্থ্যসম্মত পায়খানা আছে?? ইমারজেন্সি  ”
.
< “বাসায় তো নাই তয় পেডে আছে। আর সাস্থ্যসম্মত কিনা তা কখনো চেক কইরা দেখা হয় নাই। প্রবলেম নাই, সার্ভের সময় ওভেনে গরম কইরা নিবেন। কয় কেজি লাগবে আপনার?? ”
.
“ছিইইইইইইই। এগুলো কেউ সেল করো নাকি!! ”
.
< “নরমালী কেউ করে না তয় আপনে যেমনে জিগাইতাছেন মনেহয় আপনার আর্জেন্ট লাগবে। সো মার্কেট ডিমান্ড থাকলে সাপ্লাই দেয়া যায়। দুপুরের র ম্যাটারিয়ালস এখনো পেটে আর রাতের টা খাই নাই। সকাল পর্যন্ত হোল্ড করতে পারলে বিগ এমাউন্ট ডেলিভারি দিতে পারব। এক লটেই পুরা পার্টি কভার করতে পারবেন ইনশাল্লাহ  ”
.
“একটা থাপ্পর দিয়া দাঁত সব কয়টা ফালায়া দিবো ফাজিল ছেলে। মেয়েদের সাথে কি ভাবে কথা বলতে হয় তাও শিখো নাই”
.
< “ওওও, তো পোলাগো পেডে গু থাকে, মাইয়াগো পেডে কি ঘি থাকে নি? একি টপিক কইয়া আপনে হইলেন ভালা আর আমি কইলেই ক্যারেক্টার ঢিলা... হুররররর  ”