সোমবার, ১১ মে, ২০১৫

ফেবুকে মৃত ব্যাক্তি নিয়া হা হুতাশ

লাস্ট কয়েক বছরে যা দেখলাম কেউ অকালে মারা গেলে ফেবুকে ঐ মৃত ব্যাক্তির চেয়ে তাঁর বউ/জিএফ কে নিয়ে হা হুতাশ মুলক স্ট্যাটাস বেশি!! লগে পারলে মেয়েটার আইডি সহও দিয়া দেয়!!
‘ইসসস আহহহ মেয়েটার কি হবে’ বা ‘মেয়ে টা এত কস্ট কিভাবে নিবে’... হুম কথা ঠিক। আপন কেউ চলে গেলে কস্ট লাগবেই বাট কোন খানে দেখলাম না ‘তাঁর বাপ মায় এত কস্ট কিভাবে নিবে’ এই টাইপের কোন লেখা। 
.
ক্যারে ভাই বউ/জিএফ জুটছে কয়দিন?? বাপ মায়ে যে পয়দা কইরা পাইল্লা বড় করল হেগো কিছু হইবো না?? আমি তো যদ্দুর জানি, সবচেয়ে ভারী জিনিস বা কস্টের ব্যাপার হচ্ছে পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ। (এটা আসলে কোন ইম্পর্টেন লাইন না, জাস্ট বাপ মায়ের কথাটা মনে করায় দিলাম। কেউ মারা গেলে খারাপ সবারই লাগে)
.
আরেকটা ব্যাপার, মারা যাওয়ার পরে মৃত ব্যাক্তির ছবি হাজার হাজার শেয়ার দেয়ার মানে কি?? কোন রেফারেন্স মনে নাই তয় যদ্দুর জানি মৃত ব্যাক্তির ছবির ব্যাপারে কঠোর নিষেধ আছে। এইটা শুধু আমি না, ল্যাদা কাল থেকে অনেকেই জানেন।
তো হুদ্দাই আবেগের ঠেলায় নিজের গুনা বাড়ান ক্যা লগে আরেক জনেরেও আপনার মত কাম করতে দেয়ার সুযোগ কইরা দেন ক্যা?

বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০১৫

মধ্যবৃত্ত, নাকি মধ্যবিত্ত

ছেলে পড়াশুনা শেষ করে। বাবা চাকরি থেকে অবসর নেয়। মায়ের ডায়বেডিক্স, বাতের ব্যাথা শুরু হয়।
দুইজনেরই স্বপ্ন ছেলে ভালো চাকরি পাবে, সংসারের হাল ধরবে, বিয়ে করে ঘরে বউ আনবে। মা বউ এর উপরে সংসার ছেড়ে দিয়ে অবসর নিবে। ফুটফুটে নাতি-নাতনি হবে, ওদের নিয়ে দুই বুড়োবুড়ি তাদের গল্পের ঝুড়ি খুলে বসবে।
.
কিন্তু বুড়বুড়ির স্বপ্ন এক জায়গাতে গিয়ে হ্যাং খায়। কারন ছেলে ‘বেকার’!!।
.
পাশের বাড়ির ছেলেটার ভালো চাকরি হয়। তাঁর মা ছেলের চাকরির খুশিতে মিস্টি নিয়ে আসে সাথে এ বাড়ির ছেলের জন্য এক গাদা আফসোস রেখে যায় কারন এ বাড়ির ছেলে ‘বেকার’।
.
ওদিকে এক মেয়ে স্বপ্ন দেখে তাঁর মনের মানুষের সাথে বিয়ে হবে, ছোট্ট একটা সংসার হবে, পছন্দের মানুষের সাথে সারা জীবন পাশাপাশি থাকবে কিন্তু তাঁর স্বপ্নও এক জায়গায় যেয়ে হ্যাং খায়।
কারন ছেলে ‘বেকার’!!
.
হ্যাং থাকতে থাকতে একদিন মেয়েটার বিয়ে হয় কোন এক গাড়ি/বাড়িয়ালার সাথে। মেয়েটা হয়ত জানেই না যে এককালে তাঁর স্বামী নামক ছেলেটাও ছিলো ‘বেকার’।
.
.
বেকার ছেলেটার অবশ্য স্বপ্ন হ্যাং খায় না, কারন সে স্বপ্ন দেখারই সময় পায় না। বাবাকে রেহাই দিয়ে সংসারের হাল ধরার চিন্তায় রাতের ঘুম হারাম, আর দিনের বেলা চাকরির জন্য এই অফিস থেকে ওই অফিসে দৌড়াদৌড়ি। হ্যাং হওয়ার মধ্যে ভবিষ্যতের চিন্তায় ঘুমটাই হ্যাং হয়।
.
একদিন বেকার ছেলেটারও চাকরি হয়। বুড়া বুড়ির হ্যাং খাওয়া স্বপ্ন গুলো আবার একটিভেট হয়। খাবার টেবিলে বাবা ছেলেতে ঠেলাঠেলি চলে মাছের মাথাটা কে কার প্লেটে দিবে।
.
বুড়ি পারলে পুরা দুনিয়াকে মাইকিং করে জানায় ছেলে আর বেকার নেই। আসে পাশের বাড়িতে ছেলের চাকরির খুশিতে মিস্টি দিয়ে আসে সাথে অন্য বাড়ীর ‘বেকার’ ছেলেটার জন্য এক গাদা আফসোস রেখে আসে।
.
ছেলের প্রমশন হয়। ছেলে গাড়ি কিনে, পুরান বাসা ছেড়ে বাবা মাকে নিয়ে বড় ফ্লাটে উঠে। অতঃপর ছেলের জন্য মেয়ে দেখা শুরু হয়। একদিন কোন এক মেয়ের সাথে বিয়েও হয়ে যায়। ছেলেটা হয়তো জানেই না তাঁর স্ত্রীর আগের ভালোবাসা এখনো ‘বেকার’।
.
.
.
এভাবেই নিয়তির চিত্রনাট্য কাটা কম্পাসের আদলে মাঝের একটা বিন্দুর চারপাশে গোলাকার বৃত্রের মত ঘুরতেই থাকে। এর নামই মধ্যবৃত্ত, নাকি মধ্যবিত্ত।
.
এই মধ্যবিত্তে যাদের জন্ম তাদের মাঝে খুব কম মানুষই এই বৃত্তের বাহিরে যেতে পারে। ইচ্ছা থাকুক আর না থাকুক বেশিরভাগকে এই বৃত্তের মাঝের নিয়তিই মেনে নিতে হয়।

মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০১৫

কি কইয়া ডাকমু??

“তোগো মাইয়া মাইনষেরে লইয়া কোথাও যাইতে হইলে এই এক জ্বালা। শাড়ি পিন্দতে লাগাছ ২ ঘন্টা মেকাপ করতে লাগাছ চাইর ঘন্টা”
-- “ঐ মেয়ে মানুষ কি? মেয়ে মানুষ কি? আমার ভাবতে খারাপ লাগে তোর মত একটা ছেলে আমার ফ্রেন্ড যে কিনা এখনো মেয়েদের ‘মানুষ’ হিসাবে দেখে না, জাস্ট ‘মেয়ে মানুষ’ হিসাবে দেখে..”
.
“তোগো পোলা মাইনষেরে লইয়া কোথাও যাইতে হইলে এই এক জ্বালা। শাড়ি পিন্দতে লাগাছ ২ ঘন্টা মেকাপ করতে লাগাছ চাইর ঘন্টা”
-- “ঐ হারামী আমারে পোলা মনেহয়?? থাপড়াইয়া দাঁত সব কয়টা ফালায়া দিমু। মাইয়া দেখলেই তোগো খালি তারে পচাইতে মনেচায় না? ফাজিল কোনহানকার। মেয়েদের শুধু ‘মেয়ে’ না ভেবে ‘মানুষ’ হিসাবে দেখতে শিখ ”
.
“তোগো হিজলা মাইনষেরে লইয়া কোথাও যাইতে হইলে এই এক জ্বালা। শাড়ি পিন্দতে লাগাছ ২ ঘন্টা মেকাপ করতে লাগাছ চাইর ঘন্টা”
-- “কুত্তাআআআআআআআআআআ আমি হিজলাআআআ!!?? হারামী বাহির হ, যামু না তো লগে। যেই ছেলে মেয়েদের ‘মানুষ’ হিসাবে না দেখে শুধু ‘মেয়ে’ মনেকরে ফাইজলামি করেই যায় তার সাথে কোথাও যাওয়ার মানে নাই। যা ভাগ.. ”
.
.
কয়েক বছর পর,
“দোস্ত জানস তানিয়ার তো বাচ্চা হইছে”
-“আল্লাআআআআআ তাইইইইইইই। শো শুইট। ছেলে না মেয়ে হইছে?”
“মানুষ হইছে”
- “ মানুষের পেট থেকে তো মানুষই বাহির হবে তা তো আমিও জানি। ছেলে হইছে না মেয়ে হইছে? ”
.
“আরে কইলাম না মানুষ হইছে”
- “ভার্সিটি লাইফ শেষ কইরাও তোর কি মেয়েদের সাথে ফাইজলামী করার পুরান বদ স্বভাব এখনো যায় নাই না?? শুন মেয়েরা ফাইজলামির কোন বস্তু না, মেয়েদের ‘মেয়ে’ হিসাবে না দেখে ‘মানুষ’ হিসাবে দেখতে শিখ ”
.
.
মোর জ্বালা, মেয়েরে ‘মেয়ে’ কইলে ছেলে খ্রাফ, মেয়েরে ‘ছেলে’ কইলেও ছেলে খ্রাফ
মেয়েরে ‘হিজলা’ কইলেও ছেলে খ্রাফ, মেয়েরে ‘মানুষ’ কইলেও ছেলে খ্রাফ!!
আব্বে হালায় তাইলে কমুডা কি?? gasp emoticon

জীবনে আরেকটা প্রাপ্তি যোগ হলো।

জীবনে আরেকটা প্রাপ্তি যোগ হলো। অবশেষে 'ব্ল্যাক বেল্ট' পাইলাম kiki emoticon
.
.
.
.
.
.
বেল্টটা ওয়াড্রপের ড্রয়ারের চিপায় পইড়াছিলো। বহুত খোঁজাখুজির পরে পাইছি devil emoticon

সোমবার, ৪ মে, ২০১৫

আগে, স্টাটাসঃ "ভূমিকম্প হইছে"

আগে, স্টাটাসঃ "ভূমিকম্প হইছে"
কমেন্টঃ "সত্যি হচ্ছে? কই টের পাই নাই তো, আর কেউ টের পাইছে?"
.
এখন, স্টাটাসঃ "ভূমিকম্প হইছে"
কমেন্টঃ "টের পাইলাম নাতো, প্রুফ কি? লিঙ্ক দেন"
.
ভবিষ্যতে স্টাটাসঃ "ভূমিকম্প হইছে"
কমেন্টঃ "টের পাইলাম নাতো, প্রফ কি? কাঁপানো স্ক্রিনশর্ট দেন!!!" confused emoticon

শুক্রবার, ১ মে, ২০১৫

ভোট দেওয়া বয়স ১৮+ মানুষে কাজ

ভোট দেওয়া বয়স ১৮+ মানুষে কাজ। ................১
‘বয়স ১৮+’ মানে 'অসামাজিক' কাজের সাইন..........২
.
২ নং সমীকরণ এর মান ১ নং এ বসিয়ে পাই,
"ভোট দেওয়া অসামাজিক মানুষের কাজ"
.
আমি ভোট না দিয়া বাড়িত ঘুম গেছি মানে আমি অসামাজিক কাজ করি নাই।
অর্থাৎ আমি ছেলে ভালো।
(প্রমানিত)
# আজকে শুক্রু বার। আমাদের দেশে সরকারী ছুটির দিন আর আমার একমাত্র সাপ্তাহিক ছুটির দিন।
আজকে পহেলা মে। সারা দুনিয়ার ছুটির দিন।
.
# "কালকে এসে এনি হাও ঢাকায় সব কাজ শেষ করে জিনিস সব প্লাণ্টে পাঠাবা, পরশুর পরের দিন প্রধান্মন্ত্রী উদ্বোধন করবেন"। 
এই 'কালকে'টাই আজকে। মে দিবস/ শুক্রু বার এর ধার ধারনের টাইম নাই।
.
# "একমাত্র গার্মেন্টসের মাইয়াডি বাদ দিলে, পোলাগো তুলনায় অফিসে 'ম্যাডাম' ডাকার মত মাইয়াগো তেমন কোন কাম নাই। হুদ্দাই এসির তলে বসায় বসায় চেহারা একখান দেখায়া এডিরে মাসে মাসে ট্যাকা কতডি দেয়।
দুইন্নাইর ঝাড়ি, দাবড়ানির উপ্রে থাকে পোলাডি আর লাস্ট মোমেন্টে পোলাডির আগাইয়া দেয়া কাজের প্রেজেন্টেশন কইরা বসেগো বাহবাহ কামায় এক্সিকিউটিভ মাইয়াডি... ".... ............পরিচিত মাইয়া কতডির লগে আমার প্রায়ই এই সাব্জেক্টে কাইজ্জা লাগে।
.
# প্রধানমন্ত্রীও অনেক কাজ করেন। ৩ তারিখে একটা সুইচ চাইপ্পা ৪টা পাওয়ার প্লান্ট উদ্বোধন করবেন। দেশ কারেন্টের বন্যায় ভাইসা যাবে। কারেন্টের বন্যায় ভাসানোর পিছনের আমার কোন অবদান নাই, ঐটা ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ।
শুধু আপায় যে সুইচ একখান এক সেকেন্ডের জন্য চাপ দিয়া পর্দা সরাইবেন হেইডার এরেঞ্জমেন্টের পিছে দৌড়াইতে দৌড়াইতে সাপ্তাহ ধইরা খাওয়া ঘুম এর ১২টা বাইজ্জা গেছে সাথে পাও থে মাথা পর্যন্ত ব্যাথা।
.
এক সুইচ চাইপ্পা পর্দা সরানির এরেজমেন্টেই এতো ঘাম ঝড়াইতে হয় আর যারা লাস্ট কয়েক বছর ধরে পাওয়ার প্লান্ট টা 'কারেন্টের বন্যায় ভাসায়া' দেয়ার জন্য দাড়া করাইছে তাগো না জানি কেমন ঘাম ঝড়ছে।
.
বাট দিন শেষে ক্রেডিট গোউজ টু, যিনি সুইচ চাপবেন তার কান্ধে। তিনি এতো বিদ্যুৎ বাইছেন এন্ড সাপ্লাই দিচ্ছেন, অনেক কাজ করছেন। এর পিছনে হাজার মাইনষের ঘাম ততক্ষন রোদে শুকায়া গেছে।
.
আসলে ব্যাপারটা এমনই হয়, কস্ট কম বেশি সবাই করে। বেশি করে ক্যামেরার পিছের মাইনষেরা নাম ফুটে ক্যামেরার সামনের হাত ধইরা প্রেম পিরিতে অভিনয় করা মাইনষের। মজায় মজাও লয় সাথে নামে নামো কামায়। পিছেরডি কুত্তা খাটানটা খাটে সাথে নুন থে চুন খসলে রাস্তার কুত্তার লাহান লাত্থিও খায় grumpy emoticon
.
.
# স্টাটাস টা কি নারীবাদী, না নারী বিদ্ধেষী, না কোন দলের পক্ষে, না বিপক্ষে কইতে পারি না। মেজাজ খ্রাফ। রাত একটায় ঘুম দিসি চারটায় উঠছি। কাম কাজ গুছায়া 'শুক্রুবার', 'মে দিবসে' দৌড়াও squint emoticon
.
.
সবাইকে হ্যাপি মে ডে।
('মে' মানে 'May' না 'girl' জানি না তয় 'মেয়ের' এর মান রাখছে। অফিসের মাইডার ছুটি colonthree emoticon )