রবিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৩

মর্ডান আপা

এক উঠতি “মডার্ন” আফার সাথে চ্যাট করতে করতে আমার এক মফঃস্বলের আল্ট্রামডার্ন আপুর কথা মনে পড়লো। উনি কলেজ পর্যন্ত ঠিকি আছিলেন কিন্তু ভার্সিটিতে উইঠা তারে কোন ভূতে পাইছে কে জানে উনি হঠাৎ আম্রিকান হইয়া গেছেন!!!!!

উনি এখন কটকটি খান না, উনি ক্যাটবেড়ি সিল্ক খান!! শি সেইস, শিজ ডাই ফর চকলেট!! উনি গোছল করেন না, শাওয়াড় নেন!!

উনি এখন পটেটো চিপস খান না, উনি লেইছ/প্রিঙ্গেলস খান!!! উনি কোক পেপসি খান না, উনি সফট ড্রিঙ্কস খান!!! উনি নুডুলস খান না, স্পেগেটি পাস্তা খান!!

তো এই ধারাবাহিকতায় শীতে নতুন এড হইছে চা পান করেন না উনি জাস্ট অনলি কফি খান! (আসলেই কফি খায় না গরম পানিতে গুড় গোলায়া খায় কে জানে)

আমারে জিগাইলো “তুমি কফি খাও?”

উনার আলগা ভাবগুলান আমারে বহুত এন্টারটেইন্মেন্ট দেয় তাই আর উনার ভাবের সাথে পাঙ্গা নিয়া এন্টারটেইন্মেন্ট নস্ট করার ইচ্ছা নাই। বললাম,

“নাহ, আমার দৌড় চা পর্যন্তই  ”

> “  কি বলে, এই যুগের ছেলে কফি খায় না!!! আজওওওব!! আচ্ছা আমি বানিয়ে আনছি”

< “ আপনি কফি বানাতে পারেন?”

> “অবশ্যই!!!!!!! এটা না পারার কি আছে  ” (দ্বিগুন অবাক)

তো কফি আনার পর জিগাইলাম “কি কফি বানাইলেন? এস্প্রেসো, কাপুচিনো না লত্যে? ”

(যদ্দুর জানি বাংলাদেশী কফি খোরেরা এই কয় টাইপের কফিই বেশি খায় তাই জিগাইলাম উনি কোনডা খায়। কিন্তু তার উত্তর শুইন্না আমি পুরাই মখা হইয়া গেলাম!!)

> “আরে নাআআআআ, এসব না আমিতো Nescafe coffee বানাই সবসময়। অন্য গুলোতে টেস্ট পাইনা!!!! আর এটাই তো সবচেয়ে দামী আর বেশি চলে!!!”

দোয়া করি অনেক উঁচা ফ্যামেলিতে সকল আল্ট্রা + উঠোতি মডার্ন আপাদের বিয়া হোক কিন্তু ভুলেও কোন প্রবাসীর সাথে যাতে বিয়া না হয়। উনারা বিদেশ যাইয়া কোন কফি শপে কফি অর্ডার দিতে গিয়া ওয়েটারদের হাসাক তা আমি চাইনা।

কারন হাসিটাতো আর উনাদের নিয়া হবে না, হবে বাংলাদেশীদের নিয়া 

(বিঃদ্রঃ ইহা একটি কাল্পনিক কনভার্সেশন। “দামী” কফি নেসক্যাফের কোন “ব্রান্ড এম্বাসেডর” এর লাইফের সাথে মিলে গেলে সুসান ঝাড়ি খাইতে বাধ্য নহে  )

বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৩

চকলেট রুপচর্চা

আগে জানতাম আফারা আটা ময়দা বেসন দিয়া চামড়া চর্চা করতো। অখন দিন পাল্টাইছে। এক ফ্রেন্ডের বার্থডেতে একটু বিজি থাকার কারনে যাইতে পারি নাই তাই হেরে অগ্রিম ওর পছন্দের কয়েকটা চকলেট বার গিফট পাঠাইছিলাম।

২দিন পর যখন ওর বাসায় গেলাম দরজা খুলতেই যা দেখলাম তাতে আমার কইলজার পানি বায়বীয় হইয়া উইড়া গেলো!!!!! দুই কালাআআআআআআআ পেত্নি দরজার পিছনে!! ভালো মত তাকায়া দেখি এইডা আমার ফ্রেন্ডটা আর তার ভইন!!

“কিরে তোগো মুখে কি হইছে? ২দিন আগেও তো সাদা আছিলি!!”

> “আরে মুখে কি হবে!! চকলেট ফেসিয়াল করছি!! তুই চকলেট বার গুলো পাঠিয়ে ভালই করেছিস। টিভিতে ওমেন্স ওয়ার্ল্ড এর বিউটিশিয়ান বলছে চকলেট ফেসিয়াল নাকি সবচেয়ে ভালো এবং ত্বকের জন্য উপকারী!! তাই তোর চকলেট গুলো গলিয়ে ফেসিয়াল করছি। সুইট না!!!??”
   

মেজাজটা এমুন খারাপ হইছে। মাইনষে ভাত খাইতে পায় না আর হারামজাদিডি চকলেট বার গালে লাগায়!!!

কোনদিন যে কোন বিউটিশিয়ান রূপচর্চায় গালে সালফিউরিক এসিড ব্যাবহার এর কথা কইবো হেই দিনের অপেক্ষায় আছি। ডেম সিউর এরা হেই দিন ফর্সা হওয়ার জন্য গালে এসিডো মাখা শুরু করতে পারে, অস্বাভাবিক কিছু না।

(বিঃদ্রঃ ইহা একটি কাল্পনিক স্টাটাস। কোন বিউটিশিয়ানের মুরিদের লাইফ স্টাইলের সাথে মিলে গেলে সুসান ফোনে অথবা ইনবক্সে ঝাড়ি/গালি খাইতে বাধ্য নহে  )

সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৩

সেলিব্রেটি হবার চান্স

সেলিব্রেটি হবার একটা ভালো সুযোগ যাইতাছে মনেহয় তাও ফেবু সেলিব্রেটি না টিভি সেলিব্রেটি!!!!

চিন্তা করতাছি BNP তে সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে যোগ দিমু। সরকার যেমনে থুক্কু পুলিশ যেমনে একটার পর একটারে ধরতাছে আর দুই দিন পর পরই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবও চেঞ্জ হইতাছে এবং তারা পরবর্তি কর্মসূচি ঘোষনার জন্য একসাথে ২০-২৫টা চ্যানেল+ প্রিন্ট মিডিয়ার ক্যামেরার সামনে আইতাছে তাতে আশা করি নির্বাচনের আগে BNP এর সকল লেভেলের কর্মীর একবার করে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হয়ে মিডিয়ার হেডলাইনে আসার চান্স আসবে!!!!!! (অবশ্য এর পরে যে ১৪শিকে যাইয়া গরম ডিম খাইতে হপে না তার কোন গ্যারেন্টি নাই)

আমিও বা আর বইয়া থাকুম কেরে? এমনেও আমার এক ফ্রেন্ড টিভি সেলিব্রেটি হইয়া যাওয়ার পর আমারে আনফ্রেন্ড মারছে, আমিও “ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব” ওরফে টিভি সেলিব্রেটি হইয়া হিতিরে ব্লক মারাম। এইতো চান্স 
 — feeling সেলিব্রেটি.

রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৩

ককটেল শুইন্না ঘুম ভাঙ্গা

২৬ বছরেরে লাইফে ২০-২১ বছরই পুরান এয়ার্পোটের কাছে মানে তালতলা শ্যাওড়াপাড়া এলাকায় কাটাইছি। স্বাধীনতা দিবস না বিজয় দিবসের দিন সকাল ৬টায় তোপধ্বনি করা হইতো, ঐ আওয়াজে ঘুম ভাংতো, আলাদা একটা ফিলিংস। ঐ এলাকা ছেড়ে আসার পর থেকে গত ৫-৬ বছর সেই ফিলিংস পাই না  

আজকে বিজয়ের মাসের প্রথম দিন। ঠান্ডা ঠান্ডা দিনে খেতামুড়ি দিয়া ঘুমাইয়া আছি। হঠাৎ তোপধ্বনির আওয়াজ!!!!! ঘুম ভাইঙ্গা গেলো। এবার মনেহয় বিজয়ের মাসের প্রথম দিনেই তোপধ্বনি হচ্ছে!!

আহ মনেহয় যেনো সেই লেদা কালে ফিরা গেলাম, সেই পুরান ফিলিংস। চোখটা ঘড়ির দিকে পড়তেই দেখি সাড়ে ১০টা বাজে!!!!

সাড়ে ১০টায় আবার কিয়ের তোপধ্বনি!!!!  

একটু পর আমার ছোট ভাই+ তার বন্ধু বান্ধব দের হই হই আওয়াজ পাইলাম “ঐ রাস্তায় ককটেল ফুটাইতাছে, ছাদে চলললল, পুলিশ আইসা পড়লে আর ফুটাইবো না.........!!!!!”

এতোক্ষনে বুঝলাম তোপধ্বনি টা কিসের। ঘুমের ঘোরে মনেই ছিলো না যে আমি এখন ঐ আগের এলাকায় নাই।

আগে আমরা স্বাধীনতা দিবসের কামানের তোপধ্বনি শুইন্না এক্সাইটেড হইতাম আর এখন পোলাপাইন ককটের আওয়াজ শুইন্না এক্সাইটেড হয়!!!!

শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৩

ইন্টারভিউ রুমে

একটা প্রাইভেট ফার্মে এমডির রুমে চাকরির ইন্টারভিউ। এমডি তুলনামূলক ইয়াং মানুষ। ৩০-৩২ বছর বয়স হবে। ল্যাপটপে ফেসবুক ব্রাউজ করছেন। মনেহয় ভালোই ফেসবুক এডিক্টেড।

এমডিঃ ফেসবুক ইউজ করেন?

> “জি স্যার করি”

< “বলেন তো ফেসবুকের মালিক এর নাম কি?”

> “জুকাইরা!!!!!!!!” (জিব্বায় কামড়  ) 
“থুক্কু মার্ক জোকার বার্গার!!!!!” (  দ্বিতীয় বারের মত আবার জিব্বায় কামড়। ফেসবুকে ফাইজলামি করে এইসব ওয়ার্ড ইউজ করতে করতে রিয়েল লাইফেও ঢুইক্কা গেছে  )

< “জুকাইরা/ থুক্কু মুক্কু/ জোকার বার্গার!!!!!! হোয়াট দ্যা হেল ইট ইজ???
এই ধড়নের ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে আপনি এসেছেন এক্সিকিউটিভ পাজিশানের জন্য ইন্টাড়ভিউ দিতে!!!! হাউ রেডিকুলাস!! এধরনের ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে তো আর কোথাও জব পাবেন না এর চেয়ে বেটাড় এক কাজ কড়েন, দেখেন কোথাও উপজাতি, এলাকাবাসী, প্রতিবন্ধী কৌটায়.............. ”

এইবার এমডিরো জিব্বায় কামড়!!! 

রিসেন্ট ফেসবুকের হট টপিক “কৌটাময়” স্টাটাস সমগ্র পড়তে পড়তে ওনারো মনেহয় মুখ পিছলাইয়া ফেসবুকিয়ো ল্যাঙ্গুয়েজ বাহির হইয়া গেছে!!!

বুঝাই যাচ্ছে বহুত কস্টে হাসি চাইপ্পা আছেন এমডির ঠাট বজায়ে রাখার জন্য। ইশারায় বলল ইন্টার ভিউ শেষ, এখন যান। দরজা খুলে বের হওয়া পর্যন্ত মনেহয় উনি আর হাসি চেপে রাখতে পারলেন না। হোহো করে হেসে দিছেন!!

থাক পিছে তাকায়া উনারে “হাউ রেডিকুলাস” থুক্কু “এম্বাড়সিং” সিচুয়েশনে ফালায়া কাম নাই

রবিবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৩

শেফ সুসান (২য় & লাস্ট পার্ট)



আগে মাঝে মধ্যেই এলাকার ব্যাচেলর বা মেছে থাকা ভাই বেরাদরদের সাথে রান্না বিষয়ক ফাপর নিতাম। কইতাম “ধুর মিয়া বুয়া আহে নাই তো কিছে, নিজে নিজে রাধতে পারেন না? এইডা কোন কাম এর ভিতরে পড়ে? আমিতো প্রায় সময় ঘরে নিজের মন মত রাইন্ধা খাই!!! হুদাই KFC, BFC এ যাইয়া ট্যাকা খরছ করন লাগে নি!!” (ফাপরটা মনে হয় একটু বেশিই হইয়া গেছিলো )

তো একদিন এক বড় ভাইয়ে কল দিছে, “শেফ সাব, আমার ভাইগ্না আইছে বাসায়, কয় ফ্রাইড চিকেন খাইবো। ক্যামনে বানাইতাম রিসিপিটা একটু কইবেন?”

ফাপড় মাইরা পড়ছিতো মাইঙ্কা চিপায়, এখন তো না কইলে ইজ্জত থকতো না। পরে পেঁয়াজ বাটা, রসুন বাটা, হ্যান সস-ত্যান সস- বক্কর চক্কর মানে যেই কয়ডা মসলার নাম জানি তা সব এক চামুচ দুই চামুচ দিয়া মুরগী মাখায়া তেলে ভাজতে কইলাম।

২দিন পর ঐ ভাই এর ফোন, মাম্মাআআআআআআআ তুমি তো আসলেই একটা জিনিয়াস। চিকেন ফ্রাই অছাম হইছে। ভাইগ্না তো পুরাডাই খাইয়ালাইছে, আমি ভাগে অল্প একটু পাইছি। আর জ্বালামু না রিসিপিটা আবার কও, লেইক্ষা থুই সাথে আইজগা মেসের সবাইরে খাওয়ামু।

আমি তো তখন আন্তাজে মারছিলাম কিন্তু এমনে যে ঝড়ে বক মইরা যাইবো তা কে জানতো!! (তাইলে তো আমিও রিসিপিটা লেইক্ষা রাখতাম  ) আমিও তো আসলে জানি না সঠিক তরিকা কি। আবারও আন্তাজে নতুন রিসিপি একটা মাইরা দিলাম।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঐ মেসে এখন ওরস্যালান জাতীয় খাবার থুক্কু জাতীয় পানীয় হিসাবে ব্যাবহৃত হচ্ছে সাথে ঐ মেসে আমার গমনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হইছে 

শনিবার, ২ নভেম্বর, ২০১৩

শেফ সুসান ফার্স্ট পার্ট

বাসায় আম্মা না থাকলে মাঝে মধ্যে আমি যখন রাঁধি মাশাল্লাহ ভালই প্রসাংসা অর্জন করি। কারন আমি কখনো দেশী খাবার রাঁধি না, যা রান্ধি সবই বিদেশী ফুড!!! 

এই যেমন ধরেন ভূলে যদি খাবারে ঝাল বেশি দিয়া ফালাই তাহলে সেটা হইয়া যায় মেক্সিকান ফুড, যদি খাবার নষ্ট হইয়া টক হইয়া যায় তো ঐটা ইটালিয়ান ফুড, যদি কার সাথে কথা কইতে কইতে তেল, লবন, মসল্লা পাতি কিছুই দিতে মনে না থাকে মানে রঙ ছাড়া পাইন্সা হইয়া যায় তাইলে সেটা চাইনিজ/জাপানিজ ফুড আবার কারো লগে গোসশা কইরা মসল্লা বেশি দিয়ালাইলে হইয়া যায় ইন্ডিয়ান ফুড!!!!!!!!!! 

মাইনষেরে তো লাম ছাম বুঝায়া খাওয়াইয়া দেই আর হেরাও খাইয়া তৃপ্তির ঢেকুর তুইল্লা ভালই শেফ সুসান কইয়া প্রসংসা করে মগর আমার রান্না করা খাওন আমি খাইতে গেলে এমন বমি আহে কেরে!!!!!!!!???
 — feeling ভূলে নিজের রান্না খাইয়া মাথা দুলাইতাতে.