বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

বেশি বেশি

আগে টিভি চ্যানেল ছিলো একটা বিটিভি, মাইনষের বাসায় টিভিও থাকতো একটা। আবার সবার বাসায় টিভি না থাকলেও টিভি দেখার জন্য কম বেশি সবার দরজাই সবার জন্য খোলা থাকতো। বিটিভির অধিবেশন শুরু হত ৩টায় শেষ হত সাড়ে ১২টার মধ্যে।
.
প্রতিদিন দেখার মত একটা অনুষ্ঠান হত যেটা দেখার জন্য সারা সাপ্তাহ অপেক্ষায় থাকত সবাই। অনেক সময় বার মনে না থাকলেও অনুষ্ঠান দিয়ে বার মনে করতাম। যেমন গতকাল ম্যাগাইভার ছিলো সো আজকে সোমবার, আজকে তাহলে ওসান গার্ল, তারমানে কালকে মিস্টেরিয়াস আইল্যান্ড, ক্যাপ্টেন প্লানেট, আরেকদিন টিম নাইট রাইডার (এইডার ছুডূ নাইকাডা আমার চাইল্ড হুড ক্রাশ  ) মাসে একদিন রবিবার রাত ১১টায় ছায়াছন্দ আর শুক্রুবার সাড়ে ৮টায় আলিফ লায়লা, সাড়ে ১০টায় এক্সফাইলস।
.
এইসব অনুষ্ঠানের টাইমে এলাকার মাঠে মানুষ তো দূরের কথা মশা মাছিও মনেহয় টোগায়া পাওয়া যাইতো না। আর ইত্যাদি হওয়ার দিন তো মনেহয় বাহিরে ১৪৪ ধারা!! আবাল বৃদ্ধ বনিতা যে যেইখানে যেই কাজেই থাকুক ৯টায় আগেই দৌড়ায়া বাসায় হাজির হওয়া চাই। নিজের বাসায় না হইলেও অন্য কোথাও টিভি পাইলে ঐখানে বইসা পড়তো। কেউ খাটে, কেউ সোফায়, নিচে ফ্লোরে কোন বাধ বিচার নাই। রিমোট নিয়ে কোন কাড়াকাড়ি নাই। মোবাইলে কল আসার যন্ত্রনা নাই।
আলিফ লায়লা বা ইত্যাদি শুরুর সময় পুরা এলাকায় সবার বাসা থেকে একি মিউজিক বের হত, সে এক অন্য রকম ফিলিংস।
.
তখন কারেন্টো যাইতো রাতে একবার। সেটাও এক প্রকার এন্টারটেইন্মেন্ট। তখন আইপিএস বা এলিডি বাত্তি বা চার্জার ফ্যান এভেলেভেল ছিলো না। কারেন্ট গেলে সবাই হোওওওওওওও করে উল্লাস প্রকাশ করতো এন্ড নগদ খালি গায়ে বা সেন্ডো গেঞ্জি পরে বাহিরে বাহির হওয়া চাই। শুরু হত এলাকার মাঠে পোলাপাইনের ছুটাছুটি, মধ্যবয়সী আন্টিদের আড্ডা, বাদাম খাওয়া, রাস্তায় আরো বয়স্ক ডায়বেডিক্স চাচা চাচীদের উসাইন বোল্টের স্পিডে হাটিহাটি।
.
বেশির ভাগ বাসায় সবার জন্য কাপড় চোপড় কিনা হত বছরে একবার বা দুবার। শুধু ঈদের সময়। ঈদের আগে আবার কাউকে ঈদের ড্রেস দেখানো যাবে না এমন রিতিও ছিলো। ঈদে নতুন ড্রেস পরা আর সবাইকে দেখানোর মাঝে আলাদা মজা ছিলো। ওটা পরেই সব আত্মীয়র বাসায় যাওয়া, বিয়ে, জন্মদিন সব অনুষ্ঠান পার হতো। তাও মনেহয় পুরান হতো না সেটা স্পেশাল ড্রেসই থাকতো।
.
.
.
এখন টিভির অধিবেশন শুরুও হয় না শেষও হয় না। একটা চাবি মাইরা দিছে ছাইড়া টাইপের ২৪ ঘন্টাই কিছু না কিছু চলে। এতো বেশি চ্যানেল আর এতো বেশি অনুষ্ঠান তার ফাঁকে এতো বেশি এড, কোন চ্যানেলে যে কখন কি হয় তা মনে রাখা তো দূরের কথা এড এর টাইমে চ্যানেল উল্টাইলে কতক্ষন পরে আউলাইয়াই ফালাই একটু আগে কোন চ্যানেলে কি দেখতেছিলাম!!
.
এখন আর আগের মত বাদবিচারহীন ভাবে একসাথে বসে টিভি দেখা হয় না। সবার চোখের সামনেই কিছু না কিছু আছে। একেক ঘরে ২-৩টা করে টিভি, কারো সামনে পিসি, কেউ ল্যাপটপ কেউ ট্যাব বা স্মার্ট ফোনে ফেসবুক বা ইউটিউব বা গেমস নিয়ে বিজি।
.
এখন আর কেউ ড্রেস কিনার জন্য ঈদের অপেক্ষায় থাকে না। মাসেই ৩-৪টা করে কিনে, একটা ড্রেস পরে কোথাও গেলে সেটা পরে আর বাহিরে যাওয়া যাবে না সবাই কি বলবে সো আবার কিনো। সারা বছরই নতুন ড্রেসের ছড়াছড়ি, তাই আর এখন ঈদের ড্রেসে আলাদা কোন আনন্দ লাগে না। কিছু মানুষ শুধু শপিং করতেই আনন্দ পায় (টাকায় তো মাইনষেরে চাবায়)
.
সব কিছু যখন বেশি বেশি তো লোডশেডিংও বা বসে থাকবে কেন। সেও এখন যায় ঘন্টায় ঘন্টায়। কিন্তু এখন আর লোডশেডিং এ কেউ উল্লাস প্রকাশ করে না। কেউ আইপিএস/ জেনারেটরের কল্যানে টেরই পায়না, আর যারা পায় তাঁরা হাসিনারে গাইল্লায়া একটু সুখ খুঁজে।
.
.
আগে সব কিছু ছিলো লিমিটেড কিন্তু আনন্দ ছিলো আনলিমিটেড। এখন সব কিছুই আনলিমিটেড কিন্তু আনন্দটা হয়ে গেছে লিমিডেট।
আসলেই লিমিটে থাকা ভালো, বেশি বেশি কোন কিছুই ভালো না।

সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

নিজের সর্বনাশ

মেয়েদের মধ্যে একটা ব্যাপার আছে। প্রায় বেশিরভাগ মেয়েই বয়ফ্রেন্ড ছাড়াও লাইফে এমন একজন বন্ধুকে চায়, যার সাথে সে সবকিছু শেয়ার করতে পারবে। তার যতো ইচ্ছে, স্বপ্ন, আশা, আকাংখা, সুখ কিংবা মন খারাপের গল্প, নিজের একান্ত ব্যাক্তিগত কিছু কথা যা হয়তো সে কাউকেই বলে না। সে সব কিছু শেয়ার করে এই অতিপ্রিয় বন্ধুর সাথে। মেয়েদের কাছে এই বন্ধুত্বের মূল্য অনেক অনেক বেশী থাকে। হয়তো মেয়েটার রিলাশানের চেয়েও বেশী।
.
বয়ফ্রেন্ড এর সাথে ঝগড়া করে মন খারাপ করে এসে শান্ত্বনা খুজবে এই বন্ধুর কাছে। বাড়ীতে চেচামেচি করে একা ঘরে দরজা বন্ধ করে বালিশ ভিজিয়ে কাদবে তাতেও ফোনের ওপাশে সঙ্গী থাকা চাই সেই বন্ধুটিকে। কেউ খারাপ কিছু বলেছে, আগেই নালিশ জমা ঐ বন্ধুর কাছে। যে কোন আবদার আগে ঐ ফ্রেন্ডের কাছে যদিও সে তা পুরন করতে পারবে না জানে তাও।
.
এভাবে চলতে চলতে একসময় তাদের মধ্যে সম্পর্কটা যে কোথায় গিয়ে ঠেকছে সেদিকে মেয়েটার কোনো হুশ না থাকলেও কখনো রিলেশনে জড়াবেনা বলা ছেলেটা তার সর্বনাশ ঠিকই টের পায়। মেয়েটা তার বয়ফ্রেন্ড আছে বলে নিশ্চিন্ত মনে যখন তাদের সম্পর্কটাকে অনেকখানি গভীর করে তোলে। ছেলেটা তখন নিশ্চিতভাবেই দোটানায় পড়ে অথৈ সমুদ্রে হাবুডুবু খেতে থাকে। না পারে সামনে যেতে না পারে পিছে আসতে।
.
একজনের দৈনন্দীন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে, তার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মিশতে থাকলে তার প্রতি দুর্বলতা এমনিতেই তৈরী হয়ে যায়। একটা পর্যায়ে যখন ছেলেটার অবস্থা মেয়েটা বুঝতে পারে, তখন থেকে শুরু হয় এড়িয়ে চলা, বাড়তে থাকে জটিলতা। এক সময় না যায় সওয়া না যায় বলা করতে করতে ছেলেটা খেই হারিয়ে ফেলে। অনিচ্ছা স্বত্বেও উল্টাপাল্টা আচারন শুরু করে। ফলাফল আরো কিছু ফ্রেন্ডের সাথে সম্পর্ক নষ্ট, ছেলেটা হয়ে যায় একঘরে। সম্পর্কের টানাপোড়নে সম্পর্ক নষ্ট হয়, সূচনা হয় অসমাপ্ত গল্পের।
.
মধুর একটা সম্পর্কের শেষটা তাই হয়েও হয় না। সম্পর্কের এই জটিলতা এখন আমাদের লাইফের কমন ব্যাপার হয়ে গেছে। যেন নিত্যদিনের ডালভাত।

(কে লিখছে জানি না  )

রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

ওয়েডিং রিং

পোলাপাইনে দুই দিন পর পরি দেখি রিলেশনশীপ স্টাটাস বদলায়। কখন যে কে কার লগে কোন রিলেশনে চলে সেইটা মনে রাখাই টাফ। একবার এক ফ্রেন্ড আর তার গার্ল ফ্রেন্ডের সাথে আমরা তিন জনে কনফারেন্স কলে কথা কইতেছিলাম। আতকা কইয়া বইলাম “তুমি দেশে আসবা কবে!!” তখন আমার মনেই নাই যে এইডা তার এক্স লন্ডনী গার্লফ্রেন্ড না, এইডা নয়া চিটাইংগা গার্লফ্রেন্ড!!!! লাগ্লো নি প্যাচ!!

তো যাইহোক পোলাপাইন রিলেশন জিনিস্টারে যতটা সস্তা বানায়া ফালাইছে ব্যাপারটা আসলে আদি কাল থেকে অতটা সস্তা ছিল না। বাদ দেন এডি উচ্চমর্গীয় কথাবার্তা। এই রিলেশন ফিলেশন যারা করে হেরা এডি ভালো বুঝে আমি নাদান দর্শক খালি দেইক্ষাই যাই 

আজকে নেট থেকে পাওয়া নয়া একখান জিনিস শেয়ার করি। হাতের পাঁচটা আঙুল থাকতে ওয়েডিং রিং (বিয়ের আঙটি) কেন শুধু অনামিকাতেই পরানো হয়.. ?

চাইনীজ দের অনেকেই বিশ্বাস করে হাতের পাঁচটি আঙুল পাঁচটি সম্পর্ক কে প্রতিনিধিত্ব করে। এ বিষয়ে চমৎকার একটি মতবাদ আছে!
-
বৃদ্ধাঙ্গুলী (প্রথম আঙুল)- পিতা-মাতা
তর্জনী (দ্বিতীয় আঙুল)- ভাই-বোন
মধ্যমা (তৃতীয় আঙুল)- নিজেকে
অনামিকা (চতুর্থ আঙুল)- জীবন সঙ্গী (স্বামী/স্ত্রী)
কনিষ্ঠা (পঞ্চম আঙুল)- সন্তান

এবার আসুন ছোট্ট একটি পরীক্ষা করি
ধাপ-১: প্রথমে দুই হাতের তালু পরস্পরের মুখোমুখি রেখে দুই হাতের দশটি আঙুল এক করুন। মধ্যমা দুইটি ভাঁজ করে পিঠাপিঠি লাগান। অর অন্য চারটি আঙুলের ফিংগার টিপ পরস্পর পরস্পরকে স্পর্শ করে থাকবে।

ধাপ-২: বৃদ্ধাঙ্গুলী দুইটি পরস্পর হতে পৃথক করুন। দেখবেন পৃথক হয়ে যাবে। বাবা-মা সারাজীবন আপনার
সাথে থাকবেন না, আগে পরে উনারা আপনাকে ছেড়ে চলে যাবেন। বা সাথে থাকলেও একটা সময় আপনাকে তাদের থেকে আলাদা ভাবে কাজ করতে হবে। (বৃদ্ধাঙ্গুলী দুইটি আবার পূর্বের অবস্থায় নিয়ে আসুন)।

ধাপ-৩: এবার তর্জনী দুইটি পরস্পর হতে পৃথক করুন। পৃথক হয়ে যাবে। ভাই বোন-দেরও নিজেদের সংসার হবে, জীবনের বাস্তবাতায় তারাও একদিন আপনার থেকে পৃথক হয়ে যাবে। (তর্জনী দুইটি আবার পূর্বের অবস্থায় নিয়ে আসুন)।

ধাপ-৪: এবার কনিষ্ঠ আঙুল দুইটি পৃথক করুন, এই আঙুল দুইটিও পৃথক হয়ে যাবে। একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর আপনার সন্তানরাও বড় হবে, স্বাবলম্বী হবে... তাদেরও ঘর সংসার হবে। হয়তো তারাও আপনার থেকে পৃথক হয়ে যাবে বা যেতে হবে। (কনিষ্ঠা দুইটি আবার পূর্বের অবস্থায় আনুন)।

ধাপ-৫: এবার অনামিকা দুইটি পরস্পর থেকে পৃথক করার চেষ্টা করুন। আপনি বিস্মিত হবেন... অনামিকা দুইটি পৃথক হচ্ছেনা! আপনি আবারও চেষ্টা করে দেখতে পারেন....অনামিকা পৃথক করা সম্ভব হবেনা।
আপনার জীবনসঙ্গী আপনার সারা জীবনের সাথী.... একে অন্যেরসাথে সুখে দুঃখে সবসময় পাশাপাশি কাছাকাছি থাকবেন ঠিক অনামিকার মত....


এটা এক্সপেক্ট করেই অনামিকায় ওয়েডিং রিং পরানো হয় মগর জাতি বড়ই ফার্স্ট। বাকিরা প্রাকৃতিক নিয়মে ছেড়ে যাওয়ার আগেই জাতি তাদেরই “অনামিকার” জন্য ছেড়ে দেয়!! শেষে “অনামিকাও” সব সময় সাথে থাকে না... কখনো ফিজিক্যালি থাকে না আবার কখনো সামাজিকতা রক্ষায় চক্ষু লজ্জায় ফিজিক্যালি থাকলেও মেন্টালী সাথে থাকে না। মানে কাছে থেকেও নাই..

শুরুতেই কইছিলাম ‘রিলশন’ ব্যাপারটা আদি কাল থেকে এতো সস্তা ছিলো না যতটা আধুনিক পোলাপাইন এইডারে সস্তার চেয়েও সস্তা বানায়াফালাইছে...

বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

“প্রেমিক প্রেমিকা জেনারেশন” এবং “বিএফ-জিএফ জেনারেশন”

এক কালে প্রেমিক-প্রেমিকারা প্রেম করতো কালের বিবর্তনে এখন বিএফ-জিএফেরা প্রেম করে। অনেকের কাছে এইটার লাউ আর কদু মনে হইতে পারে তবে এটা লাউ কদুর মত ব্যাপার না। “প্রেমিক প্রেমিকা জেনারেশন” এবং “বিএফ-জিএফ জেনারেশন” এর মধ্যে পার্থক্যঃ
.
১. প্রেমিক প্রেমিকা জেনারেশন একে অন্যের সাথে সুখ দুঃখ ভাগাভাগি করে নিত, বিএফ-জিএফ জেনারেশন ‘কেয়াড়িং এন্ড শেয়াড়িং” করে।
.
২. প্রেমিক প্রেমিকা জেনারেশন বন্ধুদের জন্য বরাদ্ধ সময়ে ডেট করতো না। বিএফ-জিএফ জেনারেশন শুধুমাত্র দরকার না পড়লে ফ্রেন্ড কি জিনিস তা মনেই রাখে না। ডেটেই জীবন ডেটেই মরন।
.
৩. প্রেমিক প্রেমিকা জেনারেশন মাঝে মধ্যে কালেভদ্রে রিক্সায় ঘুরা আর বাদাম/ফুসকা বা হাওয়াই মিঠাই খেয়ে প্রেমালাপেই বেশি মত্ত থাকতো। 
বিএফ-জিএফ জেনারেশন মিনিমাম ফ্রাইড চিকেন উইথ সফট ড্রিংস ছাড়া ক্যান জানি প্রেম করতেই পারে না। এই জেনারেশনে যে ৬ মাস প্রেম করতে পারে তার ঢাকা শহরের নাম করা সব রেস্টুরেন্ট এর মেন্যু মুগস্থ হইয়া যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু না। বরং না হওয়াটাই অস্বাভাবিক।
.
৪. প্রেমিক প্রেমিকা জেনারেশনে একজনে তেড়ি বেড়ি করলে অন্যজনে সুইসাইডের হুমকি দিত। বিএফ-জিএফ জেনারেশন এক্ষেত্রে স্ক্রিনশর্ট বা “লিটনের ফ্লাটের ভিডিও” নেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়।
.
৫. প্রেমিক প্রেমিকা জেনারেশন শুরু থেকেই বাপ মায়ের অবাধ্য ছিলো। প্রেমও করতো পালায়া বিয়াও করতো পালায়া। 
বিএফ-জিএফ জেনারেশন প্রেম করার সময় বাপ মায়ের অবাধ্য হলেও বিয়ার টাইমে বাপ মায়ের বাধ্যগত। “বাবা মা মানবে না” এই কথাটা বেশির ভাগ বিএফ-জিএফ এরই “সকল কাজ” সারার পরে যাইয়া মনেপড়ে। 

৬. প্রেমিক প্রেমিকা জেনারেশন সাপ্তাহে একটা করে নীল খামে এলাকার পিচ্চি ব্রাদার মারফত চিঠি আদান প্রদানের মাধ্যমে যোগাযোগ করতো। 
বিএফ-জিএফ জেনারেশন সারাদিনই ডিজিটাল যোগাযোগের উপরেই থাকে। কথা বলতে বলতে মাঝে মধ্যে হাপায়া গেলে বা ব্যাটারী শেষ হইলে ৫-১০ মিনিটের জন্য খ্যান্ত দেয়।
.
৭. প্রেমিক প্রেমিকা জেনারেশন এর পার্সে বা মানিব্যাগে তার লাভারের পাসপোর্ট সাইজের ছবি থাকত। বিএফ-জিএফ জেনারেশন এর স্মার্টফোনে, ল্যাপটপে, ফেসবুক প্রো পিকে তাদের হাজার হাজার কাপল সেলফি থাকে।
.
৮. প্রেমিক প্রেমিকা জেনারেশনের মধ্যে আল্লাহয় লাজ লজ্জা বেশি দিছিলো। তাদের রিলেশনশিপ স্টাটাস কখন কেমন তা খুব কাছের ২-১ জন ফ্রেন্ডরা ছাড়া সহজে কেউ জানতো না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাঁরা ভাইজ্ঞা যাওয়ার পরে জাতি এদের রিলেশনের ব্যাপারে জানতো। 
বিএফ-জিএফ জেনারেশন এর লাজ লজ্জা ব্যাংক এ ফিক্সড ডিপজিট করা। সকালে ইন এর রিলেশন উইথ মোখলেস, দুপুরে এঙ্গেজ উইথ ছখিনা, বিকালে মেরিড উইথ জরিনা, সন্ধ্যায় ইন আ কমপ্লিকেটেড রিলেশনশীপ, রাতে সিঙ্গেল এবং মধ্য রাতে আবার ইন এ রিলেশনশীপ স্টাটাস পুরা বিশ্ব ফেসবুকের মাধ্যমে দেখতে পায়। (জনগনের বিরক্তি এরা কেয়ার না)
.
৯. প্রেমিক প্রেমিকা জেনারেশন মাঝে মধ্যে খুব ক্লোজ বন্ধুদের সাথে কিছুটা আনন্দঘন মূহুর্ত পার করার জন্য সবাই একসাথ হয়ে সুন্দর কোন জায়গায় আড্ডা দিত।
বিএফ- জিএফ জেনারেশন এখন একটু ডিফ্রেন্ট ভাবে ‘ফান’ বা ‘চিল’ করার জন্য ফেড়ন্সদের সাথে কোন A টু Z “FC” বা সিসা হাউজে হ্যাং আউট করে (যদিও এডির মানে আমি এখনো বুঝি না, খালি শুনি)
.
১০. প্রেমিক প্রেমিকা জেনারেশন একে অন্যের মাঝে “ভালোবাসা” খুঁজতো, 
বিএফ জিএফ জেনারেশন একে অন্যের জন্য “ভালো”-“বাসা” খুঁজে। ক্যান খুঁজে তা এই ইমো দিয়াই বুইজ্ঝা নেন 

বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৪

ওজন

ল্যাদা কালে  যখন ওজন ৪০ কেজি তখন  কোন আত্মিয়র বাসায় গেলেঃ “সুসাআআআআআআন তুই আগের থেকে দেখি অনেক শুকায়া গেছোস!!!”

যখন ওজন ৫০ কেজি তখন কোন আত্মিয়র বাসায় গেলেঃ “সুসাআআআআআআন তুই আগের থেকে দেখি অনেক শুকায়া গেছোস!!!”

যখন ওজন ৬০ কেজি তখন কোন আত্মিয়র বাসায় গেলেঃ “সুসাআআআআআআন তুই আগের থেকে দেখি অনেক শুকায়া গেছোস!!!”

যখন ওজন কইম্মা ৫৪ কেজি তখন কোন আত্মিয়র বাসায় গেলেঃ “সুসাআআআআআআন তুই আগের থেকে দেখি অনেক শুকায়া গেছোস!!!”

এখন ওজন ৬৭ কেজি, এখনো কোন আত্মিয়র বাসায় গেলেঃ “সুসাআআআআআআন তুই আগের থেকে দেখি অনেক শুকায়া গেছোস!!!”




বুঝলাম  না হালার কাহিনি!!! এইডা কি আসলেই ‘শুকায়া গেছির’ হাঁ হুতাশ না ওয়েলকাম জানানির কোন তরিকা!!! o.O

বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৪

সেলফ ডিপেন্ডেন্ট

“কিরে আর কত অন্যের উপর ডিপেন্ডেন্ট থাকবি??? এইবার সেলফ ডিপেন্ডডেন্ট হ”
.
< “আমি তো সেলফ ডিপেন্ডেন্টই”
.
“ক্যামনে???  ”
.
< “এইযে দেখো না আমি নিজের ছবি নিজে তুলি যারে কয় সেলফি। অন্যের ছবি তুইল্লা দেওনের আশার উপর নির্ভর করতে হয় না। সো আ’ম সেলফ ডিপেন্ডেন্ট  ”
 — 

মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৪

কবিরাজ

আমার বড় খালার লিভারে প্রব্লেম ছিল (যিনি কয়দিন আগে ইন্তেকাল করেছেন)। ১০-১১ দিন বারডেমে ছিলো। তাদের পক্ষে আর পসিবল না, তাঁরা গ্যাস্টো-লিভারের একজন টপ লেভেলের ডাক্তারকে রেফার করে দিছেন। এবার বারডেম থেকে খালাকে ল্যাবেইডে ঐ ডাক্তারের আন্ডারে ভর্তি করানো হল। উনি খালার শরীর থেকে একটা স্যাম্পল নিয়ে ইন্ডিয়ায় টেস্টের জন্য পাঠাইছেন। আসতে ৭ দিন লাগবে এর উপরেই নির্ভর করবে খালাকে দেশে রাখা যাবে না বাহিরে নিতে হবে।
.
তো এলাকার আরেক আন্টি আইলো আমগো বাসায়। আম্মার কাছ থেকে সব কথা শুনে কইতাছে (কথা গুলা অনেকটা এমন )

“আরে ধূরো আপনেরা কিযে করেন। হুদ্দাই ডাক্তারের পিছে ট্যাকা কতডি খরছ করতাছেন। এই রোগ এমনে সারবো নি??? আমার পরিচিত কবিরাজ একটা আছে। লন ঐডার চেম্বারে।”

< “কোন কবিরাজ?? চেম্বারো আছে??  ”

“হুম বড় কবিরাজ। চেম্বারে বসে  ”

< “নাম কি? ”

“কবিরাজ চুমকির মা দাড়ান এখুনি ফোন দিতাছি ”
.
বাসায় থাকতেই ‘কবিরাজ চুমকির মা’ কে আন্টি কল দিলো,

“আপা কেমন আছেন? আপনি কি চেম্বারে??”

< “এইতো আছি ভালো। হুম চেম্বারে। ক্যান?”

“না একটু দরকার আছে। এক আপার লিভারের অসুখ, তাই আসবো”

< “আচ্ছা আসেন। একটু তাড়াতাড়ি আইসেন। আমার হাসবেন্ড অসুস্থ। তারে নিয়া আবার ডাক্তারের কাছে যাইতে হবে!!!!!!!”